সাওম, ইসলামের চতুর্থ রুকুন (sawm)

on Sunday, July 8, 2012

সাওম আরবি শব্দ। সাওম অর্থ বিরত থাকা। সুবহে সাদিক(সূর্যোদয় এর পূর্ব মুহূর্ত) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত স্বেচ্ছায় সকল রকম খাদ্য গ্রহণ, পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিরত থাকাকে ইসলামী পরিভাষায় সাওম বলে। ইসলামে সাওম বা রোজার গুরুত্ব অপরিসীম। রোজার মাধ্যমে একজন মুসলিম এর ভেতর তাকওয়া পয়দা হয়। তাকওয়া অর্থ সাবধানতা অবলম্বন। রোজা বা সাওম মুসলিমদের সকল রকম পাপ কাজ থেকে দূরে রাখে শুধু তাই নয় তাদের ঈমান কে মজবুত করে। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম নরনারীর জন্য সাওম বা রোজা ফরজ হিসেবে বর্তমান। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন পাকে আল্লাহ্‌ তাআলাহ ঘোষণা করেছেন যে – “ তোমাদের ওপর সাওম ফরজ করা হল , যেমন হয়েছিল পূর্ববর্তী উম্মতগণের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অরজন করতে পার।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত নং – ১৮৩)

মুসলমান গণ আরবি মাস রমজান পুরোটা সাওম পালন এর মাধ্যমে অতিবাহিত করে। তাই রজমান মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র। এসারাও রমজানের আরও গুরুত্ব এই যে মহান আল্লাহ্‌ তাআলা এই রমজান মাসেই মুসলমানদের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ কুরআন নাযিল করেছেন। রমজান মাসে সাওম পালন এর পাশাপাশি এশার সালাত আদায় এর পর বিশ রাকাত তারাবির সালাত আদায় করতে হয়। তারবির সালাত এর গুরুত্ব সাওম এর মতই অপরিসীম। মহানবী হযরত মোহাম্মাদ (সা.) এরশাদ করেছেন যে -
“যা ব্যক্তি রমজান মাসে তারাবির সালাত আদায় করে, তার অতীতের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।”

কুরআন মাজিদে সাওম এর তিনটি উদ্দেশ্যের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এগুলো হলঃ

১. তাকওয়া অর্জন।
২. আল্লাহ্‌র শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা।
৩. আল্লাহ্‌র শোকর গুজার হওয়া।

ধর্মীয়, সামাজিক ও আত্মিক ভাবে সাওম এর গুরুত্ব অপরিসীম।

ধর্মীয় গুরুত্বঃ

হাদিস এ কুদসি তে বলা আছে যে, আল্লাহ্‌ পাক বলেন -
“সাওম আমারই জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।”
যে মুসলমান সাওম পালন করে সে অনেক পুণ্যের অধিকারী হয়। মহানবী হযরত মোহাম্মাদ (সা.) এরশাদ করেছেন যে -
“সকল শত কাজের পুণ্য দশ হতে সাত শত গুন পর্যন্ত হবে। কিন্তু সাওম একমাত্র আল্লাহ্‌র জন্য বিধায় তার পুণ্য আল্লাহ্‌ তাআলা নিজেই দেবেন।”

এছাড়াও মহানবী হযরত মোহাম্মাদ (সা.) এ সম্পর্কে আরও এরশাদ করেছেন যে -
“যে ব্যক্তি রমজান মাসে সঠিক ভাবে রোজা রাখে, সে সিশুর মত নিষ্পাপ হয় যায়।”

তিনি আরও বলেছেন যে – “ সাওম ঈমানদারদের জন্য ঢাল স্বরূপ।”

সাওম একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমান এর জন্য অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। কোন মুসলমান যদি তা অস্বীকার করে তবে সে কাফির হয়ে যায়। সাওম পালন এর মাস রমজান মাস মুসলমানদের জন্য ধৈর্য্যের মাস। পুরো এক মাস অর্থাৎ পুরো রমজান মাস সাওম পালনের মাধ্যমে বান্দার ধৈর্য্যের পরিক্ষা হয়। এ সম্পর্কে মহানবী হযরত মোহাম্মাদ (সা.) এরশাদ করেছেন যে – “ রমজান মাস ধৈর্য্যের মাস এবং ধৈর্য্যের বিনিময় হচ্ছে জান্নাত।”

সামাজিক গুরুত্বঃ

সাওম পালনের মাধ্যমে মুসলমান গণের একে অন্যের প্রতি সহানুভূতি বাড়ে, বিভিন্ন বদ অভ্যাস দূর হয় এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়। মানুষ সচারচর ভোগবিলাস এ অভ্যস্ত তাই ধনীরা সাধারণত গরীবদের ক্ষুধা তৃষ্ণার দুঃখ বুঝতে পারে না। সাওম পালনের মাধ্যমে একজন ধনী ব্যক্তি একজন গরীবের ক্ষুধা তৃষ্ণার দুঃখ অনুভব করে এবং তার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। ফলশ্রুতিতে সামজিক বন্ধন দৃঢ় হয়। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকার কারণে একজন মুসলিম বিভিন্ন বদভ্যাস যেমন – নেশা করা, হিংসা, বিদ্বেষ ইত্যাদি সমাজ থেকে দূরীভূত হয়।

এছাড়াও সাওম পালনের কিছু অর্থনৈতিক গুরুত্তের একটি হল রমজান মাসে ধনী ব্যক্তি গণ আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের আশায় বেশী বেশী দান খয়রাত করে থাকে। ফলে সমাজের অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটে।

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...

View the Original article

0 comments: