হাজ্জ, ইসলামের পঞ্চম খুঁটি (Hajj)

on Thursday, July 12, 2012

যে পাঁচটি রুকুন বা খুঁটির উপর ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হাজ্জ তার মধ্যে সর্বশেষ রুকুন বা খুঁটি। হাজ্জ আরবি শব্দ এর বাংলা অর্থ সংকল্প বা ইচ্ছা করা। নির্দিষ্ট দিন সমূহে(জিলহাজ মাসের এক থেকে দশ তারিখ পর্যন্ত) নির্ধারিত কয়েকটি স্থান ও পবিত্র কা’বা শরীফে আল্লাহ্‌ ও রাসুল নির্দেশিত উপায়ে কিছু নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান পালন কে ইসলামি পরিভাষায় হাজ্জ বলা হয়।

সমস্ত ধনী মুসলিম যারা পবিত্র মক্কায় যাওয়ার আর্থিক ও দৈহিক সংগতি রাখেন তাদের জন্য হাজ্জ ফরয করা হয়েছে। দরিদ্রদের জন্য হাজ্জ ফরয নয়। সমস্ত জীবন এ মাত্র একবারই হাজ্জ পালন করা ফরয করা হয়েছে। কুরআনুল কারীম এ পবিত্র হাজ্জ সম্পর্কে একটি পূর্ণ সুরাই নাজিল করা হয়েছে। এছাড়াও কুরআনের অন্যান্য জায়গায় হাজ্জ সম্পর্কিত অনেক আয়াত নাযিল হয়েছে। আল্লাহ্‌ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন – “ আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ শরীফে হাজ্জ পালন করা মানুষের ওপর অবশ্য কর্তব্য; মানুষের মধ্যে যাদের সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে।” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত নং – ৯৭)

হাজ্জের ফরজ তিনটিঃ

১. ইহরাম বাঁধা।

২. কা’বা ঘর তাওয়াফ করা। এবং

৩. আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা।

উপরোক্ত যে কোন একটি কাজ বাদ পরলে হাজ্জ হয় না।

ইহরাম বাঁধা মানে হল সেলাইবিহীন কাপড় পরিধান করা। এর তাৎপর্য হচ্ছে যত কাপড় চোপড়ই থাকুক না কেন হাজ্জের উদ্দেশ্যে আজ হাজ্জকারী ফকিরের বেশে আল্লাহ্‌র সম্মুখে হাজির হয়েছে। ইহরাম বাঁধা অবস্থায় রঙিন কাপর পরা যায় না, সুগন্ধি ব্যবহার করা যায় না এবং চুল কাঁটা যায় না।

মক্কায় পৌঁছানোর পরপরই কা’বা শরীফ তাওআফ করতে যেতে হয়। তাওআফ শেষ করে মাকামে ইবরাহীম নামক স্থানে দুই রাকাত সালাত আদায় করতে হয়। এরপর সেখান থেকে বের হয়ে ‘সাফা’ ও ‘মারওয়া’ নামক পাহাড়দ্বয়ের মাঝখানে দৌড়াতে হয়।

হাজ্জ এর সময় যে দুয়াটি বার বার পড়তে হয় তা হল “ লাব্বায়েক আল্লাহুমা লাব্বায়েক।”

এর অর্থ “হাজির হে আল্লাহ্‌! আমরা তোমার দরবারে হাজির।”

হাজ্জের অনেক প্রকার আত্যাধিক ও সামাজিক শিক্ষা রয়েছে। হাদিস শরীফ এ বর্ণিত আছে, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এরশাদ করেছেন যে – “যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হাজ্জ পালন করল এবং কোন প্রকার অন্যায় ও গুনাহের কাজ করল না, সে বাড়ি প্রত্যাবর্তন কালে এমন নিস্পাপ হয়ে ফিরল, যেন অদ্য মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছে।”

তিনি আরও এরশাদ করেছেন যে – “ পানি যেমন ময়লা আবর্জনা ধুয়ে পরিষ্কার করে দেয়, হাজ্জ ও তেমনি মানুষের মনের ময়লা আবর্জনা ধুয়ে পরিষ্কার করে দেয়।”

কোন মুসলমান যার উপর হাজ্জ নিয়ম অনুযায়ী ফরয হয়েছে সে যদি তা অস্বীকার করে তবে সে কাফির হয়ে যায়। হাজ্জ পালনকারী ব্যক্তি আল্লাহ্‌র খুবই প্রিয় বান্দা। আল্লাহ্‌ তার সকল গুনাহ মাফ করে দেন।

হাজ্জ মুসলমানদের জন্য এক বিশ্ব সম্মেলন।  হাজ্জ এর মাধ্যমে বিশ্বের সকল দেশের মুসলমানরা একত্রিত হওয়ার সুযোগ পায়। বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন ভাষার মুসলমান গণ এই সম্মেলনে একত্রে মিলিত হন। তাদের পরস্পরকে ভালভাবে চেনা ও জানার সুযোগ হয়। এতে বিশ্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্ব বোধ বৃদ্ধি পায়।

এছাড়াও হাজ্জ এর মাধ্যমে মুসলমান ধনী  ব্যক্তিদের মন থেকে কৃপণতা, অপচয় প্রবনতা দূর হয়। মিতব্যয়ী ও দানশীল হওয়ার দরুন দারিদ্র কমে যায় ফলশ্রুতিতে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকে।

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...

View the Original article

0 comments: